Breaking News

১১ লাখ টাকার পাট কিনতে খরচ আরও ১৪ লাখ টাকা!

খুলনার বেসরকারি সোনালী জুট মিলের জন্য ১১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকার পাট কেনা হয়েছে। এই পাট কিনতে গিয়ে সম্মানী, যাতায়াত, আপ্যায়ন এবং পাট ব্যাপারীদের উপহার বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা!

ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী জুট মিল পরিচালনার মালিকানা বিষয়ক জটিলতা নিরসনে ১৪ জুলাই বৈঠকে গঠিত দেনা পাওনা নিরূপণ কমিটির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ মিলের গুদামে পাট রেখে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ায় দুদকের মামলায় সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তা এখন জেল হাজতে। আর মিল মালিক বিদেশে।

কমিটির কাছে হাসান ট্রেডার্স চার মাস মিল পরিচালনা করার জন্য তার বিনিয়োগ হিসেবে এক কোটি ৭ লাখ ২৩ হাজার টাকার পাওনা বলে হিসাব দাখিল করে। মাহমুদুল হাসান এই চার মাস মিলে উৎপাদনের জন্য পাট কেনে ১১ লাখ ১০ হাজার টাকার।

এই পাট কিনতে তার বাড়তি খরচ হয়েছে ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৩০০ টাকা। খরচের খাতগুলো হচ্ছে, গাড়ি ভাড়া ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের জ্বালানি বাবদ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা, ঠিকাদারের সম্মানী বাবদ ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ টাকা, পাটের মোকামে যাতায়াত খরচ বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, বায়ারদের পেছনে খরচ ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, পারিতোষিক খরচ ২ লাখ টাকা, পাট কেনার অগ্রিম ক্ষতিপূরণ ৫০ হাজার টাকা, ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডারের অগ্রিম প্রদান ১ লাখ ৫০ টাকা।

সোনালী জুট মিলের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী এম এস এমদাদ হোসেন বলেন, ‘মালিকপক্ষ কীভাবে মিল পরিচালনা করবে তা তাদের এখতিয়ার।’

মাহমুদুল হাসানের হিসাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার সাথে ভাড়াটিয়ার চুক্তি। কিন্তু ভাড়া তো দেয়নি এবং মিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুও করেনি। ১১ লাখ টাকার পাট কিনতে ১৪ লাখ টাকা ব্যয় বিষয়টি হাস্যকর।’

ঠিকাদার হাসান ট্রেডার্স’র মাহমুদুল হাসান জানান, ১১ লাখ টাকার পাট কিনতে ১৪ লাখ টাকা অন্যান্য ব্যয়। প্রথমবার খরচ আরও বেশি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কয়েকবার হাত বদলের পর মিলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাগেরহাটের আব্দুল মান্নান তালুকদারের নিউ বসুন্ধরা গ্রুপ। কোনো চুক্তিপত্র ছাড়াই তিনি মিলটি পরিচালনা করছিলেন। ২০১৮ সালে মান্নান তালুকদারের অবৈধ ব্যবসা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুদক তদন্তে নামে।

পরবর্তীতে দুদকের ১১০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং মামলায় মান্নান জেল হাজতে যান। পরে জুট মিল পরিচালনার ঠিকাদার নিযুক্ত হন পুরবী ট্রেডিং, হাসান ট্রেডার্স হয়ে সেলিম এন্টারপ্রাইজ। তারা কেউই চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। বরং মিলের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সোনালী জুট মিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী এস এম এমদাদ হোসেন মিল পরিচালনার জন্য  হাসান ট্রেডার্সের মাহমুদুল হাসানের সাথে চুক্তি করেন। ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তি হয়। সে হিসাবে ইনভেন্ট্রি করে মিলটি মালিক কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেন। চুক্তি অনুযায়ী ১ মার্চ থেকে মিল চালু, পুঁজি বিনিয়োগ করার কথা। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ হাসান ট্রেডার্সের মালিক মাহমুদুল হাসান কোনো অর্থ বিনিয়োগ করেননি।

এদিকে হাসান ট্রেডার্স পুনরায় মিল নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা  চালান। যার ফলশ্রুতিতে তিনি খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তর পরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তর থেকে ৭ জুলাই পরিচালক মিজানুর রহমানের দপ্তরে এক বৈঠক হয়। সেখানে শ্রম দপ্তর থেকে সোনালী জুট মিলস লিমিটেড একটি পত্র দেন ১৪ জুলাই আলোচনায় বসার জন্য। চিঠিতে বলা হয়, সভায় মিলের সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

হাসান ট্রেডার্সকে এমদাদ হোসেন মিল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে অস্বীকার করায় সিদ্ধান্ত হয় মিল পরিচালনা করবেন আলম ও তাসনিম হাসান। তবে যে চার মাস হাসান ট্রেডার্স মিলটি পরিচালনা করেছেন তার দেনা-পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শাহবুদ্দিন আহমেদ।

সময়েরকন্ঠস্বর/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *