Breaking News

করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না, ঠিকই আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর ১১ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আশঙ্কা করছেন, এখনো বাংলাদেশ সংক্রমণের চূড়ায় পৌঁছেনি। বরং করোনা সংক্রমণের ‘পিক টাইমে’র দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে দেশে সংক্রমণ এখনো বাড়লেও সেটি ‘লাফিয়ে লাফিয়ে’ বাড়ছে না বলেও মন্তব্য তার।

মন্ত্রী বলেন, আমরা করোনা সংক্রমণের ৭০ দিন পার করেছি। আমি মনে করি, আমরা এখন করোনা সংক্রমণের পিক টাইমের দিকে যাচ্ছি। যেদিন থেকে দৈনিক শনাক্তের হার কমতে শুরু করবে, তখন আমরা বলতে পারব যে পিকে ছিলাম, এখন নামছি। এখন সংক্রমণ বাড়ছে। তারপরও এখন আমি মনে করি, তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না, ঠিকই আছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত করোনার আপৎকালীন ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন। কেবলমাত্র মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে এ ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।

করোনা রোগীদের চিকিৎসার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই রোগী বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে আমরা অন্য দেশের তুলনায় এখনও ভালো আছি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়তই এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন, পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

‘সারাদেশে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল করেছি। আমাদের কমিটমেন্ট ছিল, মে মাসে প্রতিদিন ১০ হাজার টেস্ট করার, দু’দিন আগেই সেটা হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও কোভিড-১৯ রোগীদের শতভাগ সুস্থ করে তোলার মতো ভ্যাকসিন বা ওষুধ উৎপাদন হয়নি। তবে বেশ কয়েকটি দেশে রেমডেসিভির ওষুধটি কার্যকর হচ্ছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই বেক্সিমকো উৎপাদিত ওষুধ রেমডেসিভির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের সুস্থ করে তুলবে বলে আশা করছি।

ওষুধ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে করোনা রোগীদের এই ওষুধে চিকিৎসা প্রদান করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আক্রান্ত রোগীদের সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। নমুনা টেস্টের জন্য ল্যাবরেটরির সংখ্যা বৃদ্ধি, ডেডিকেটেড হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একদিনে নমুনা টেস্টের সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে। সংখ্যাটা আরো বাড়ানো হবে।

রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত তৎপর হতে হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যেখানেই দেরি হয়েছে সেখানেই রোগী বাঁচানো কষ্ট হয়েছে। দেরিতে হাসপাতালে নেওয়াটা খুবই ক্ষতিকর।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশনে বর্তমানে সাড়ে ৩ হাজারের মতো করোনা রোগী আছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই রোগের সঠিক চিকিৎসা নাই, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া অনুসরণ করতে হবে। বাজারঘাটে যাতে লোক কম যায়। (ঈদ ঘিরে) ফেরিঘাটে মানুষ জটলা পাকায়, সেখানে সংক্রমনের একটা আশঙ্কা আছে। সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে তাদের ঠেকাতে। তবুও মানুষ চলে যাচ্ছে।

সময়েরকন্ঠস্বর/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *